পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ- 'সরকার পতন পরবর্তি সহিংসতার দীর্ঘ ঘটনাবলীর পুনরাবৃত্তি হল পঞ্চগড়ের বোদা থানার সরকার পাড়া গ্রামে। অভিযোগ পেয়েপঞ্চ গড় জেলা প্রতিনিধির নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার সরকার পাড়া নতুন হাট এলাকা একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। পঞ্চগড়ের বোদা থানার সরকার পাড়া নিবাসী মোঃ আব্দুল লতিফ ও মরিয়ম বেগমের পুত্র সন্তান মোঃ মোকাররম হোসেন। মোঃ মোকাররম হোসেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। পরবর্তিতে সদ্য ক্ষমতা হতে ছিটকে পড়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুব সংগঠন যুবলীগে যোগদান করেন মোঃ মোকাররম হোসেন। বিগত ২০২৩ ইং সালের সম্মেলনে তাকে বোদা উপজেলার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তিনি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সহ নানা রকম সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন।
বিগত ০৫ই আগস্ট/২০২৪ ইং সালে আকস্মিক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটে। ঐ সন্ধ্যায় সারাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ, নিযাতন-নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। বাদ যায়নি তাদের পরিবার পরিজন। অগনিত বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশ হত্যা,থানায় অগ্নি সংযোগের কারনে দেশে চরম অরাজকতা সৃষ্টি হয়। ধারাবাহিক ঘটনার কারনে বোদা উপজেলার যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার সরকার পাড়া, নতুনহাট নিবাসী মোঃ মোকাররম হোসেনের বাড়ীতে হামলা করে কতিপয় ছাত্র, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মীরা। সৌভাগ্য ক্রমে মোঃ মোকাররম হোসেন বাড়ীতে না থাকলেও তার বাড়ীতে ভাংচুর, লুটপাঠ এবং অগ্নি সংযোগ করা হয়। লুট করা হয় কয়েক লক্ষাধিক টাকার স্বর্নালংকার সহ মালপত্র। মোঃ মোকাররম হোসেনের চাচা মোঃ জামিরুল ইসলাম কে মারপিট করে চিরপঙ্গু করা হয়। তার চাচাতো ভাই ফারুক হোসেন কে অমানবিক ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোঃ মোকাররম হোসেনের অনুপস্থিতিতে ও পরবর্তিতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর শুরু করে তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা। একমাত্র আয়ের উৎস্য রক্ষার জন্য মোকারর হোসেনের স্ত্রী তামান্না আক্তার তমা চেষ্টা করলে তাকেও মারপিট করা হয় অমানবিকভাবে, তিনি অন্তসত্ত্বা থাকায় তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে কিছু ব্যক্তি তাকে দ্রুত পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। যেখানে গর্ভপাতের লক্ষন দেখে ডাক্তারগন তাকে বাচাতে ডিএনসি সার্জারী করেন। মোঃ মোকাররম হোসনের অনাগত সন্তান হত্যা ছিল মধ্যযুগীয় বর্বরতার সমতুল্য ও সীমাহীন অমানবিক ঘটনা কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস করেনি কোন প্রতিবেশী। অতপর মোঃ মোকাররম হোসেন তার অসুস্থ স্বীকে দেখতে আসলে তাকেও গুরুতর আহত করা হয়। তিনি আবারও আত্মগোপন করেন তাকে হত্যার ভয়ে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের সহ আরও কিছু মামলার আসামী করে মামলা বানিজ্য শুরু করে কিছু প্রতিপক্ষ দলের নেতা কর্মীরা। অবশেষে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে আত্মগোপন করেন। কিন্তু মামলা হয়নি তার চাচাতো ভাই ফারুক হোসেন হত্যার ঘটনায়।
এই বিষয়ে সরকার পাড়া গ্রামের অনেক ব্যক্তির সাথে কথা বলেন এই পতিনিধি। সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও দায়ী ব্যক্তি কারা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান অনেকেই। মোঃ মোকররম হোসেনের পিতা আব্দুল লতিফ কথা বলতে অপারগ। মারাত্মক আহত তার পঙ্গু চাচা মূলত ২য় দফায় আহত হন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষায়। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশ বাংলাদেশ। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আর কত অমানবিকতার জন্ম হবে এমন প্রশ্ন মানবাধিকার কর্মী ও সুনামি সমাজের। মব সন্ত্রাস বন্ধে এখনই বর্তমান অন্তরবতী জরুরী পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বর্তমান সরকার এমন আশা করেন এই প্রতিবেদক সহ সম্পাদক মহোদয়।